কি ও কী-এর মধ্যে পার্থক্য



আমরা অনেকেই মনে করি কি ও কী-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, দুটোর যেকোনো একটা লিখলেই চলে। কিন্তু বন্ধুরা, কি আর কী একেবারেই আলাদা। এদের পার্থক্য জানা থাকলে এবং ঠিকঠাক মতো শব্দ দুটোর প্রয়োগ ঘটালে বাক্যের অর্থ চট করে বুঝে ফেলা যায়।
যেসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না দ্বারা দেয়া যায়, সেসব প্রশ্নে ‘কি’ ব্যবহৃত হবে; আর যেসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ বা না দ্বারা দেয়া যায় না, সেসব ক্ষেত্রে ‘কী’ ব্যবহৃত হবে। যেমন :
ক. i) তুমি কি খাবে? তুমি না খেলে খাবারটা ভিখিরিকে দিয়ে দেবো।
ii) তুমি কী খাবে— ভাত না রুটি?
খ. i) তোমার নাম কী— রনি না জনি ?
ii) তোমার বাবার নাম কি জহির?
গ. i) তুমি কী চাও— শার্ট না পাঞ্জাবি?
ii) তুমি কি চাও আমি তোমাকে পাঞ্জাবি কিনে দেই?
ঘ. i) কিছু ফেলে গেলেন কি?
ii) কী ফেলে গেলেন?
ঙ. i) দ্রব্যমূল্য যে বাড়ল, এর কি কোনো যৌক্তিক কারণ আছে?
ii) কী কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ল?
চ. i) তুমি কি গান গাও? না নাচো?
ii) তুমি কী গান গাও— আধুনিক গান না ব্যান্ডের গান?
এখানে ক থেকে চ পর্যন্ত যে ছয় সেট উদাহরণ দেখলাম; সেখানে i-চিহ্নিত প্রশ্নগুলোর উত্তর হ্যাঁ বা না দ্বারা দেওয়া যায় বলে সেগুলোতে ‘কি’ বসেছে, আর ii-চিহ্নিত প্রশ্নগুলোর উত্তর হ্যাঁ বা না দ্বারা দেওয়া যায় না বলে সেগুলোতে ‘কী’ বসেছে।
বিবিধ উদাহরণ :
কি: i) তুমি কি কেবলই ছবি?
ii) তুমি কি সেই আগের মতোই আছো?
iii) সখী, ভালোবাসা কারে কয়? সে কি কেবলই যাতনাময়?
iv) আমার ছোট তরি; বলো, যাবে কি?
v) আমি যা দেখি, তুমি কি তা দ্যাখো?
কী: i) কী করি আজ ভেবে না পাই!
ii) পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়!
iii) কী গান শোনাব, ওগো বন্ধু?
iv) কী এমন দুঃখ তোমার?
v) তোমাকে দেয়ার মতো কীই বা আছে আমার!
বিস্ময়সূচক বাক্যে বিশেষণ কিংবা ক্রিয়াবিশেষণ হিশেবে ব্যবহৃত হলে ‘কী’ লিখতে হবে। যেমন :
i) সে কী, দাদা! অর্ধেকটা ডিমের পুরোটাই খেয়ে ফেললেন!
ii) আহা! কী যে ভালো লাগল!
iii) সময় কী দ্রুতই না কেটে যায়!
iv) মুস্তাফিজ রোহিতকে কী নাকানিচুবানিটাই না খাওয়াল!
v) এ কী! হচ্ছেটা কী!
vi) কী ঘুমটাই না ঘুমালাম! কী শান্তি!
তবে বাক্যে অব্যয় পদ হিশেবে ব্যবহৃত হলে ‘কি’ লিখতে হবে। যেমন :
i) কি ব্যাটিং, কি বোলিং— সাকিব দুটোতেই বিশ্বসেরা।
ii) কি গণিত, কি ইংরেজি— দুটোতেই সে সমান পারদর্শী।
iii) দিন কি রাতে, সাঁঝ-প্রভাতে; তোমারই আছি এই তো।
এমনকি, নাকি, কিসে, বৈকি ইত্যাদি শব্দে ক-এ ই-কার বসবে।
এখন থেকে আমরা কি আর কী-এর সঠিক প্রয়োগ করব এবং ভাষার শুদ্ধতা বজায় রাখব।


Previous Post
Next Post

0 comments:

Blog Archive